ত্রাতিনা চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল- আমি কোথায়? তার কণ্ঠস্বর দূরে মিলিয়ে গেল, তারপর প্রতিধ্বনিত হয়ে আবার ফিরে এল, আমি কোথায়...আমি কোথায়...আমি কোথায়...
খুব ধীরে ধীরে প্রতিধ্বনিগুলা মিলিয়ে যেতে থাকে। তারপর এক সময় আবার সেই নৈশঃব্দের শূন্যতায় ডূবে যায়।
ত্রাতিনা আবার চিৎকার করল, আমি কোথায়? তার চিৎকার বধু দূর থেকে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে, প্রতিধ্বনিত শব্দগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে থাকে। শব্দগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে থাকে। শব্দগুলো মিলিয়ে যেতে যেতে আবার নূতন করে অনুরণিত হয়, ত্রাতিনার মনে হয় সে বুঝি কারো কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছে। স্পষ্ট বোঝা যায় না, কিন্তু কোন এক ধরণের কণ্ঠস্বর। মনে হয় কেউ কিছু একটা বলছে
বইয়ের শুরুটা খুবই দারুণ ছিল। রীতিমত বুকে কাঁপন তোলার মত। কিন্তু গল্প যত এগোল, ততই ধার কমল। মোটামুটি এক-তৃতীয়াংশ পেরুনোর পর শুরু হলো নতুন বোতলে পুরনো মদ। বিশেষ মিশনে মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে একটি মহাকাশযান, ক্রু হিসেবে মানুষ ও অ্যানড্রয়েড দুইই আছে, সেটা কবে ফিরবে-আদৌ ফিরবে কি না অনিশ্চিত... মহাশক্তিশালী মহাজাগতিক প্রাণী... সেই থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়। শেষ পর্যন্ত জাফর ইকবালের আরেকটি গতানুগতিক সায়েন্স ফিকশন। সময় কাটানোর জন্য মন্দ না, কিন্তু স্মৃতিতে দাগ ফেলে যাবার মত কিছু নয়।
এই বইতে জাফর ইকবালের মূল সমস্যা হচ্ছে তিনি নতুন করে কিছুই দিতে পারছেন না। শুধু এই বইই না, গত ৪/৫ বছর ধরেই তিনি কিছু দিতে পারছেন না। গত কয়েক বছর ধরে তিনি যা লিখছেন তা আসলে উনি আগের সায়েন্স ফিকশনগুলোতেই লিখেছেন বারবার। অবস্থাটা আম দিয়ে রান্না করা টকের মতো। টকের মাঝে 'একটা' আমের বরা আছে, একজনের পর একজন মানুষ টক দিয়ে ভাত খাচ্ছে। যত জনই খাচ্ছে তত জনের পাতেই আমের বরা থাকছে। সকলেই বরা চুষছে। কয়েকজন চুষার পর এক পর্যায়ে দেখা গেল এতে আর মুখে দেবার মতো কিছু নেই। আমের বরা এখন আর টক-ভাতের স্বাদ তো বাড়...more
অপ্রতিরোধ্য গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে একটি মহাজাগতিক কণা, সেটাকে থামাবার উপায়-কণাটির ওপর নেমে তাতে থার্মোনিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ ঘটানো। তবে যে নামবে, সে বেঁচে ফিরবে না। দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে এল রায়ীনা, মেয়ে ত্রাতিনাকে বিদায় দিয়ে নামল সেই গ্রহকণায়। বিস্ফোরণের ঠিক আগ মুহূর্তে আবিষ্কার করল--- কী আবিষ্কার করল, সেটা জানতে হলে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের ত্রাতিনা পড়তে হবে। সেবা/তিন গোয়েন্দা এর বাইরে পড়া প্রথম বই স্যারের ক্রুগো এবং যারা বায়োবট। সম্ভবত তার কোন বই পড়া বাকি নেই (লেস্টেস্ট ছোটাচ্চু, ...more
জাফর ইকবাল স্যার আমার শৈশব কৈশোরের দিনগুলো রাঙ্গিয়ে দিয়েছিলেন সহজ সরল সাবলীল ভাষায় মায়া মায়া সেইসব সাইন্স ফিকশন লিখে৷ এই বইটাতেও সেই সাবলীল ভাষায় বজায় রয়েছে কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, সেই একই (বা কাছাকাছি) টিপিক্যাল প্লট, গোটাকয়েক ইল্লোজিক্যাল মোটিভ এবং শেষ মেষ প্রচন্ড দূর্বল একটা এন্ডিং৷ আশাহত হয়েছি স্যার। আমি আবার আর একটাবার আপনার সেই শাহনাজ ও ক্যাপ্টেন ডাবলু, সফদর আলীর মহা মহা আবিস্কার, মেতসিস এর মত জাদুকরী সাই ফাই গুলো পড়তে চাই।
"ত্রাতিনা"......নামটা নিঃসন্দেহে মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিয়মিত পাঠক দের কাছে আগে থেকেই পরিচিত। ওনার লেখা "নায়ীরা" নামক সায়েন্স ফিকশন এ নীরা ত্রাতিনা ছিলেন একজন মহাকাশচারী আর তার সন্তানতুল্য ক্লোন মেয়েটি ছিল নায়ীরা। "ত্রাতিনা" 'র ক্ষেত্রে মহাকাশচারী মায়ের নাম রায়ীনা এবং তার মেয়ে ত্রাতিনা। খুব যত্ন সহকারে স্যার নীরা ত্রাতিনা থেকে ত্রাতিনা এবং নায়ীরা উল্টে রায়ীনা নাম দুটি তৈরি করেছেন! এরপর আসা যাক কাহিনীর কথায়। "নায়ীরা" বইটির মতোই এই বইটিও (প্রধানত) দুটি পর্বে বিভক্ত। দুই ক্ষেত্রেই ১ম পর্ব...more
মুক্ত বাতাসের খোঁজে by আসিফ আদনান PDF Free Download
মুক্ত বাতাসের খোঁজে : নীল জগতে আসক্ত মানুষদের জন্য অসাধারন লেখা একটি বই হল ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে। বইটি লিখেছেন আসিফ আদনান। অনেকে এই বইটিকে জীবন বদলানো বই হিসেবেও বলে থাকেন। কারণ, বাস্তবে এই প্রজন্মের অনেক তরুণ জীবন বদলানোর মন্ত্র খুঁজে পেয়েছে এই বইটি পড়ে। মূলত, জীবনের মোড় বদলানো এই বইটি লেখা হয়েছে পর্ণগ্রাফির বিরুদ্ধে। আপনি যদি নীল জগতের পথে ভুলে পা বাড়িয়ে থাকেন এবং তা থেকে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার ইচ্ছা থাকে। তবে আপনার জন্য সেরা মোটিভেশনাল বই হতে পারে আসিফ আদনানের লেখা এই অসাধারন বইটি। লেখক এই বইটি ছাড়াও ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে পর্ণগ্রাফি আসক্তি থেকে মুক্তির পথ দেখানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হল পর্ণগ্রাফির প্রতি আসক্তি। আর পর্ণগ্রাফি আসক্তি থেকেই বিভিন্ন প্রকার খারাপ কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে এই প্রজন্ম।
পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত একজন মানুষের জীবন কিভাবে জাহান্নামে পরিণত হতে পারে তা আপনি জানতে পারবেন ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বইটি থেকে। যারা প্রকৃতপক্ষে এই খারাপ আসক্তি থেকে বের হতে চান, তাঁদের জন্য বৈজ্ঞানিক এবং ধর্মীয় ব্যাখার কম্বিনেশনে বইটিতে দেয়া গাইডলাইনগুলো আপনাকে দারুণভাবে মোটিভেট করতে সক্ষম। এছাড়া, এই সংক্রান্ত যেকোন সাহায্য সহযোগিতার জন্য রয়েছে তাঁদের ফেসবুক গ্রুপ ‘Mukto Batasher Khoje (মুক্ত বাতাসের খোঁজে)‘। লাইক দিতে পারেন তাঁদের ফেসবুক পেজ ”পর্নোগ্রাফি: মানবতার জন্য হুমকি“।
মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করা যায় একদম বিনামূল্যে। অনেকেই অনলাইনে মুক্ত বাতাসের খোঁজে PDF খুঁজে থাকেন। তাঁদের জন্য আজ আমরা শেয়ার করছি বইটির ইবুক ভার্সন, একদম ফ্রি!
আসিফ আদনানের ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’
Mukto Bataser Khoje বইটির মাধ্যমেই আসিফ আদনান মোটামুটি পরিচিতি পেয়েছেন। তবে বইটির জনপ্রিয়তা থাকলেও লেখক ‘আসিফ আদনান’ থেকে গেছেন জনপ্রিয়তার আড়ালেই। অর্থাৎ, লেখক আসিফ আদনানের পরিচিতি সকলের কাছে খুব একটা না থাকলেও, মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটি অন্যতম জনপ্রিয় একটি বইয়ের নাম। আর তাইতো, বইটি বিনামূল্যে পিডিএফ আকারে পাওয়া গেলেও অনলাইন বুক শপ রকমারিতে ইসলামিক বইয়ের ক্যাটাগরিতে এটি ৩ নম্বর বেস্ট সেলার বই। পর্ণগ্রাফি আসক্তি নিয়ে আসিফ আদনানের লেখা আরও একটি হল ‘ঘুরে দাড়াও’। লেখকের বইগুলো আরেক জনপ্রিয় লেখক আরিফ আজাদ -এর মতোই অনেকটা ইসলামিক ধাঁচের।
বইয়ের নাম
মুক্ত বাতাসের খোঁজে
লেখক
আসিফ আদনান
দেশ
বাংলাদেশ
প্রকাশক
ইলমহাউস পাবলিকেশন
পাতা
২৪০টি
প্রকাশের সাল
২০১৮
ভাষা
বাংলা
বইয়ের ধরণ
ইসলামি বই: আত্ম উন্নয়ন
আইএসবিএন
—-
গোরা by রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর PDF Free Download
Book Name: গোরা (Gora) Book Writer: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) Book Type: উপন্যাস Book Pages: 376 File Size: 3 MB
Introduction:
It has been a long time since I have read any Hindi novel or books so this time, I decided to read a Hindi novel. When I saw this novel in the library in no time I picked it up. This is the fifth novel and largest in order of Tagore’s twelve novels.
Plot summary:
Set in the era of early 19 th century this novel is one of a complex novel was written by Tagore. The story starts with Binoy, an educated man summoning by love hearing a Baul singer. At the same time, he met a beautiful girl named as Sucharita and fall in love with her. Later he finds that she is the next door neighbour. Binoy becomes friend with her younger brother Satish which makes an easy entry to her house and meet her family.
Soon, they found that they belong to the different community. Binoy is a follower of Hinduism, worships the idols while Sucharita follows Brahmo Samaj, who does not believe in idol worshiping. Binoy’s entry in her house raises many eyebrows in Hindu and brahiminical society and states that Brahm people are influenced by Christianity.
The person who gets most annoyed by Binoy becoming friendly in Brahm family is Gora (Gour Mohan) , the protagonist of a novel, a tall, broad shoulders, fair skin man who mostly resembles a foreigner among dark-skinned Bengali people. He is hardcore brahman who keeps his belief in Hinduism apex than to everything. He is an educated person who believes in the old age custom of Hinduism and thinks that India gets freedom only when it accumulate the scattered Hindu samaj. He has clear perspective in religion and he spreads it by travelling village to village.
Gora and Binoy have perfect friendship which gets affected by the increasing friendship between Binoy and Brahm family of Sucharita. Her family includes her foster father Pareshbabu, an intelligent, calm and modern thought of man. Her foster mother Vardasundari, a typical woman who love to show-off their children’s work. Things become violent when the various circumstances led Brahman Binoy to marry her free- spirited Brahm sister Lolita. Horanbabu (Panubabu), to be a husband of Sucharita is a villain in this novel. Who take granted of loopholes of Hinduism to shape his bond with Britishers.
Gora’s father Krishnadayal is a ritualistic man while his mother Anandmoyi is a liberal woman who does not believe in age old blind customs. Gora is their loving son. But what happens when Gora get to know the reality of his birth blood? Why his father never touched him? Would his nomad to a various village, people and Muslims affect his belief in Hinduism? Would he able to see the what the true religion is?
Last few pages simply pour various emotions in readers. Many power-pack conversations between characters on Hinduism, religion and Brahmo Samaj is simply awesome.
বউ-ঠাকুরানীরে হাট by রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর PDF Free Download
কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসগুলোর মধ্যে বউ-ঠাকুরানীরে হাট অন্যতম এবং প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। ‘বউ-ঠাকুরাণীর হাট’ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা। বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম রাজা প্রতাপাদিত্য-তার ছেলে উদয়াদিত্য-পিতৃব্য বসন্তরায়ের নানাদিকের নানামুখী বাঁকের আলোতে উপন্যাসটি এগিয়ে গেছে এবং গতি পেয়েছে, হয়েছে শক্তিশালী, প্রাণ পেয়েছে সুরমা ও বিভা চরিত্রটির জন্যে।
গর্ভধারিনি by সমরেশ মজুমদার PDF Free Download
কোনো বই পড়ে আপনার কখনও রিডার্স ব্লক হয়েছে? গর্ভধারিণী পড়ার পর একমাসেরও বেশি সময় আমি অন্য কোন বই পড়তে পারিনি, শুরু করলেও শেষ হয়নি। এরপর একটানা কয়েকটা বই পড়ে মনে হচ্ছে সাথে রাইটার্স ব্লকও হয়েছিল। গর্ভধারিণী পড়ার পর থেকে আর একটা রিভিউও লিখিনি, অথচ পড়ার পর এই লেখাটা আমি খুবই উপভোগ করি।
জয়িতা,আনন্দ,সুদীপ আর কল্যান। চারজন চার রকম পরিবেশে বড় হয়েছে, প্রেসিডেন্সীতে পড়ার সময় পরস্পরে বন্ধু হয়ে উঠে।মানবিক মূল্যবোধ থেকে সমাজ সচেতনতা উঁকি দেয় সদ্য যৌবনে পা রাখা এদের ভিতর স্বতন্ত্রভাবে। অসম অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙ্গে দিতে চায়।সব দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর উপর চাপিয়ে হাত-পা গুটিয়ে পুরনো মানুষের মতো বাঁচতে বিবেকে বাঁধে।অন্তত কিছুটা হলেও নাড়া দিতে চায় ওরা যাতে এই চুপসে পরা সংস্কারাগ্রস্ত বাঙালী অবিচারের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তোলে;তবে ওরা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয় এমনকি কোন বাম দলও নয়। চারজনের ভিতর সুদীপ রগচটা, খানিকটা খেয়ালী; আনন্দ ঠাণ্ডা মাথার ছেলে, কথা দিয়ে সহজে অন্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। জয়িতা বিপদে বুদ্ধি খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, নিঃসেন্দহে জয়ী এই উপন্যাসের সবচেয়ে শক্তিশালী চরিত্র! জয়ীর ভূমিকাটুকু বললে গোটা উপন্যাসের কাহিনী বলা হয়ে যায় । কল্যাণ সবচেয়ে ভালো ছাত্র, তবু তার মধ্যে বহু মধ্যবিত্ত সংস্কার রয়ে গেছে। আনন্দটা ছাড়া বাকি সবারই চিন্তা ভাবনা পরিবারের সাথে অসমতল। অল্প বয়সের কিছু উদ্দীপনা, পরিবর্তনের চেষ্টায় যে ব্যাকুলতা তার ছাপ চরিত্রগুলোর প্রতিটা কথায়, আলোচনায় টের পাওয়া যায়। হঠাৎ খুঁজে পাওয়া রেনেসাঁর স্পর্শে সব ভেদাভেদ দূর করার প্রচেষ্টায় মত্ত চার তরুণ-তরুণী। যে কোন ভেদাভেদ; হোক সেটা ধনী-গরীবের, হোক সেটা নারী-পুরুষের।
একে একে ওরা আক্রমণ করে ধনীদের অনৈতিক বিনোদনের স্বর্গ, 'প্যারাডাইস', একটি জাল ওষুধের কারখানা। তারপর ঠাকুরপুকুরের এক পুরনো বাড়িতে আশ্রয় নেয় আর লক্ষ্য করতে থাকে মানুষের প্রতিক্রিয়া।সরকারি নেতা কর্মী বিদ্রোহী ডাকাত বললেও সাধারণ মানুষদের অনেকেই বাহবা দিতে থাকে তবে অবশ্যই জনসম্মুখে নয়। একসময় পুলিশের নজরে চলে আসে এরা,ছবিসহ পত্রিকায় ছাপা হয়। পালানোর আগে এক মন্ত্রীকে শেষ করে যায়, যে কিনা মুখে সাম্যবাদীর বুলি আওড়ায় আর ভিতরে ভিতরে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো,সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়দাতা ,ঘুষ আদান প্রদানের মূল।
এবার শুরু হয় নতুন সংগ্রাম, ফেরারি জীবন।চারজন দুভাগ হয়ে শিলিগুড়ি চলে যায়, কলকাতা ছাড়ার আগে বেশকিছু টাকা,জামা কাপড়,প্রচুর ওষুধসহ মাস দেড়েকের রসদ নিয়ে নেয়।শিলিগুড়ি থেকে জীপে করে দার্জিলিং; সর্বত্র পুলিশের ভয়। যেখানে সেখানে পুলিশ হানা দেয় তাই ওরা প্লান করে ভারতীয় পুলিশের আওতার বাইরে এমন এক জায়গা খুঁজে বের করতে হবে।ম্যাপ দেখে নেপাল বর্ডারের চ্যাঙথাপু গ্রামকে টার্গেট করে। ভোর না হতেই দার্জিলিং হতে আসে সান্দাকফু, ট্রেকিং করে সান্দাকফুতে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে যখন ক্লান্ত; কুয়াশা সরে গিয়ে যখন তাদের সামনে বুক চিতিয়ে দাড়ায় নয়নাভিরাম কাঞ্চনজঙ্ঘা, চোখ শীতল হয়ে আসে, সব অবসাদ মিলিয়ে যায় মনে হয় এক হাজার বছর কাটিয়ে দেয়া যাবে এই নৈসর্গের সামনে দাঁড়িয়ে। একদিকে পুলিশের ভয়, ধরতে পারলে বিচার ছাড়াই রাস্তায় মত মারবে ভালো করেই জানা। আরেকদিকে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমরেশ মজুমদারেরর বর্ণনা। থ্রিলার হিসেবেই পড়েছি এতটুকু, বই এর অর্ধেকটা। কিন্তু জীবনটা থ্রিলার উপন্যাস না, বাস্তবতা অন্যরকম।
অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছিলাম না অনেক দিন ধরে। মানুষের রুচি কত দ্রুত বদলায়, পছন্দ অপছন্দ বদলাতেই বা কত সময় লাগে! নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারগুলো কিভাবে শুরু হয়, অন্যের জন্য নিজের স্বার্থ কতটা ভুলে থাকা যায়। মানসিকতার পার্থক্যের পরও একসাথে কতটা পথ চলা সম্ভব! এগুলো ছাড়াও অনেক খটকা এই এক বই পড়ে মিটে গেছে। তবুও কাহিনীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভাবতে গেলে প্রত্যেক বার মাথা ফাঁকা হয়ে আসে। চিন্তাভাবনা উল্টো স্রোতে চলে। আর কোনো বই সম্ভবত আমাকে গর্ভধারিণীর মত প্রভাবিত করেনি আগে।
সাতকাহন by সমরেশ মজুমদার PDF Free Download
কে এই দীপাবলি? শুধুমাত্র উপন্যাসের নায়িকা, নাকি বাস্তব জগতে এই মেয়ের কোনো অস্তিত্ব আছে? একটা জীবনের কাহিনী এত সুন্দরভাবে চিত্রিত করা বাংলা সাহিত্যে বিরল। এই দীপাবলি কি শুধুমাত্র লেখকের কল্পনা? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে লেখককে অবশ্যই জানতে হবে। বাংলা লেখক হিসেবে সমরেশ মজুমদারের জুড়ি মেলা ভার। সাতকাহন থেকে শুরু করে গর্ভধারিণী, সহজ-সরল ভাষায় খুব স্বাভাবিক ভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন জীবনের সব স্তরের চিত্র।
লেখককে একবার প্রশ্ন করা হয়, "আপনি কি দীপাবলিকে কাছ থেকে চেনেন?" খুব ছোট্ট সাদামাটা উত্তর, "হ্যাঁ, আমি যেখানে থাকতাম, সে পাড়াতে দীপাবলি থাকত, আমার প্রতিবেশী ছিল।" একজন নারী হিসেবে আপনাকে এই মেয়ের নারী হয়ে উঠার উপাখ্যান অবশ্যই পড়তে হবে। আর পুরুষ হিসেবে আপনি যদি এই উপন্যাস পাঠ করেন, তবে অবশ্যই বলতে হবে, নারীকে অসম্মান করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হবেন।
কাহিনীসংক্ষেপ এবং বিষয় পর্যালোচনা
উপন্যাসটি মূলত নারীকেন্দ্রিক একটি গল্প। সমাজের অনেক পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে একজন মেয়ের উপরে উঠে আসার গল্প। মাত্র দশ বছর বয়স থেকেই দীপাকে অতিক্রম করতে হয়েছে নানা বাধা-বিপত্তি, মুখোমুখি হতে হয় কিছু অপ্রিয় সত্যের। চেনা জগতটা চটজলদি অচেনা হয়ে যায় দীপার। কিন্তু তবুও সে থেমে থাকেনি। নিরন্তর চেষ্টা চালিয়েছে নিজের সম্মান প্রতিষ্ঠার। নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে অর্জন করেছে সাফল্য কিন্তু সাফল্য অর্জনের এই পথ মোটেও সহজ ছিল না তার জন্য। প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয়েছে সমাজ, পরিবার, এমনকি মাঝে মাঝে নিজের সাথেও। একজন নারী যে পুরুষের চেয়ে কোনো অংশে কম না, তা দীপাবলি বুঝিয়ে দিয়েছে চোখে আঙুল দিয়ে।
দীপাবলী ছাড়াও আরো অনেকগুলো নারী চরিত্র এসেছে উপন্যাসটিতে। দীপাবলীর ঠাকুমা মনোরমা সেকালের মানুষ হয়েও অনেকের চেয়ে আধুনিক। চা বাগানকে ঘিরে যাদের জীবিকা, তাদের জীবন সম্পর্কে চমৎকার বর্ণনা পাওয়া যায় বইটিতে। বর্ণনাগুলো এতই নিখুঁত যে পড়ার সময় পাঠক চা বাগানে ঝির ঝির করে বৃষ্টি পড়ার ছবি দেখাটাও অদ্ভুত নয়। পঞ্চাশের দশকে ভারতে এমন অনেক জায়গা ছিল, যেখানে তখনও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। এই উপন্যাসের চা বাগানটিও সে ধরনের একটি জায়গা যেখানে আধুনিক সভ্যতার পদচারণা সবে শুরু হয়েছে।
ডুয়ার্সের চা বাগান; Image Source: VromonGuide
সমাজের ঘুণেধরা সংস্কারের বিরুদ্ধাচরণ করে সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে এক নারী। সাধারণের মাঝেই দীপাবলির গল্প অসাধারণ। গল্পের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত তার চরিত্রের বিকাশ এবং জীবনবোধের পরিবর্তন গল্পটিকে অন্য এক রূপ দিয়েছে। বাংলার প্রতিটি নারীই দীপাবলির মাঝে অল্প হলেও নিজেকে খুঁজে পাবে। কেউ হয়তো তার উপর হয়ে যাওয়া অন্যায়গুলোর শিকার, আবার কেউ হয়তো তার মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পেরেছে। দীপার জীবনে এসে মিশেছে নানা নাটকীয়তা, আর এসব নাটকীয়তাকে ছাপিয়েই যার জীবন এগিয়ে গেছে। চরিত্রটি প্রবল স্বকীয়তায় পরিপূর্ণ। লোভ, ঘৃণা, প্রেম, রিপুর তাড়না, বাঁচার ইচ্ছে, উচ্চাকাঙ্ক্ষা; সবমিলিয়ে সমরেশ মজুমদারের দীপাবলী। দুই খণ্ডের বিশাল উপন্যাসটি পড়তে পাঠকদের কখনওই একঘেয়েমি লাগবে না কারণ তারা কয়েক পৃষ্ঠা পড়েই দীপার জীবনের সাথে পরিচিতি অনুভব করবেন।
দীপাবলিকে যতই চেনা যায়, অবাক হতে হয়; কখনো বা তাকে মনে হয় অতি চেনা এক নারী। বিংশ শতাব্দীর নারীদের চিন্তা যে কতটা আধুনিক ছিল, তা এই উপন্যাস না পড়লে বুঝতে পারা যায় না। দীপাবলি, রমলা সেন আর মায়ার আধুনিকতা দেখে হয়তো বর্তমানের অনেকের চিন্তা-চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে হয়।